হজরত আদম (আঃ) সন্তানদের (হাবিল ও কাবিল) জন্মলাভের ইতিহাস এবং পৃথিবীর প্রথম হত্যা #al quraner bidhan alo#আল কোরআনের বিধান আলো


হযরত আদম (আঃ)ও মা হাওয়া(আঃ)যখন দুনিয়াতে একত্রে বসবাস শুরু করেন।তখন দুনিয়াতে মানুষ বৃদ্ধির জন্য আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম আঃ কে জোড়ায়  জোড়ায় জমজ সন্তান দান করেন।কারন পৃথিবীতে আদম ও হাওয়া (আঃ)আর কোন মানুষ ছিল না।তাই পৃথিবীতে বংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তখনকার শরিয়তের বিধান অনুসারে একগর্ভের সন্তানের সাথে  অন্য গর্ভের সন্তানের বিবাহ জায়েজ ছিল।পরে এই শরিয়ত আইন রহিত করা হয়।হযরত আদম (আঃ) পরিবারে বিশ গর্ভে চল্লিশ জন অথবা একশত বিশ গর্ভে দুশো চল্লিশ জন সন্তান জন্মলাভ করেন। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া)

হাবিলের সাথে জমজ বোন আকলিমা এবং কাবিলের সাথে জমজ বোন লিওজা জন্মগ্রহণ করেন। তাদের পরিনত বয়সে হজরত আদম আঃ শরিয়তের আইন অনুযায়ী হাবিলের সাথে লিওজার এবং কাবিলের সাথে আকলিমার বিবাহের আয়োজন করেন।কিন্তু কাবিল এই বিয়েতে রাজি হননি। কারন আকলিমা,লিওজা অপেক্ষা কম সুন্দরী ছিলেন। সে লিওজা কেই বিবাহ করার জন্য মনস্থ করলেন। হজরত আদম (আঃ) ফয়সালা দিলেন উভয় কে কুরবানি করতে।যার কুরবানি কবুল হবে সেই লিওজাকে বিবাহ করবে।


https://alquranerbidhanalo.blogspot.com/
আকলিমা ও লিওজা

তখন তারা কুরবানি করতে প্রস্তুত হলো।হাবিল পশু পালন করতেন। তিনি উৎকৃষ্ট একটি ভেড়া বা বকরি কোরবানি করলেন। অন্য দিকে কাবিল শষ্য উৎপাদন করতেন। তিনি তা থেকে কিছু শষ্য কুরবানির জন্য নিদিষ্ট করলেন। উভয়ের কুরবানি দুর পাহাড়ে রেখে আসা হলো।আদম (আঃ) এর সময় নিয়ম ছিল কারো কুরবানি যদি আল্লাহ তাআলা কুদরতি আগুন দ্বারা ভস্মীভূত হয়।তাহলে তিনি সঠিক পথে আছেন।হাবিলের কুরবানি ভস্মীভূত হলো এবং কাবিলের কোরবানি সেই রকম পড়ে রইল।

আল্লাহ পাক এরশাদ করেন "আর  আদমের দু'ছেলের কাহিনি আপনি তাদের কে যথাযথ ভাবে শোনান।যখন তারা উভয়েই কুরবানি কুরবানি করেছিল অতঃপর একজন থেকে কবুল করা হলোএবং অন্যজনের কবুল করা হলো না।সে বলল, অবশ্যই তোমাকে আমি হত্যা করবো।অন্যজন বলল,আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকীদের পক্ষ থেকে কবুল করেন"। সুরা মায়েদা আয়াত-২৭।

হাবিল ও কাবিলের হত্যাকান্ড

হাবিলের কোরবানি কবুল হলো।ফলে হাবিল সঠিক পথে ছিলেন। কাবিল এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারলেন না।তিনি বললেন আমিই লিওজা বিবাহ করবো এবং তোমাকেও হত্যা করবো।হযরত আদম (আঃ) কে কাবিল দোষারোপ করেন এই বলে যে,আপনি হাবিলের জন্য দোয়া করেছেন আর আমার জন্য দোয়া করেন নি।

কিছু দিন পর হাবিল তার পশুপাল নিয়ে বাড়ি ফিরতে বিলম্ব করেন। তখন হজরত আদম (আঃ) কাবিল কে বলেন, হাবিলকে দেখতো এখন আসছে না কেন?কাবিল পশুচারণ ভূমিতে তাকে দেখতে পেলেন। কাবিল বলল,তোমার কোরবানি কবুল হলো আর আমার কোরবানি কবুল হলো না,কেন?  হাবিল বলেন, আল্লাহ তাআলা মুত্তাকীদের কুরবানি কবুল করেন।কথা শুনে কাবিলের মাথা গরম করে হাবিলকে আঘাত করতে যায়।

হাবিলের জবাব, আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন "আমাকে হত্যার জন্য তুমি তোমার হাত প্রসারিত করলেও আমি আমার হাত তোমাকে হত্যার জন্য তোমার প্রতি প্রসারিত করবো না।নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টিকুলের আল্লাহ কে ভয় করি।(সুরা আল-মায়েদা আয়াত -২৮)এরকম জবাবে হাবিলের উত্তম চরিত্র ও আল্লাহভীরুতা হিসাবে তিনি সঠিক পথে ছিলেন। 

কাবিল শক্ত লাঠি দ্বারা হাবিলের মাথায় আঘাত করে এবং সেখানে হাবিলের মৃত্যু হয়।কেউ কেউ লিখেছেন যে,কাবিল বড় একটি পাথর খন্ড দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিলকে আঘাত করে ফলে তার মাথা চুর্ন- বিচুর্ন হয়ে মারা যান।কেউ কেউ লিখেছেন,ঘুমন্ত অবস্থায় গলা টিপে শ্বাস রোধে তাকে হত্যা করা হয়। আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া) 

আল্লাহ পাক আরও এরশাদ করেন " নিশ্চয়ই আমি চাই তুমি আমার এবং তোমার পাপ নিয়ে ফিরে যাও।ফলে তুমি আগুনের অধিবাসী হও এবং এটা জালিমদের প্রতিদান"।সুরা মায়েদা আয়াত-২৯।
হজরত কাতাদাহ ও হজরত মুজাহিদ (রহঃ)বলেন এর অর্থ তুমি আমাকে হত্যা করার কারনে যে পাপ হবে তা তোমার পুর্ব পাপের সাথে যোগ হবে।(তাবারী)

তার আল্লাহ তাআলা দুটি কাক সহদর পাঠালেন।তারা মারামারি করে একটি মারা গেল,।আরেক টি মাটি খুড়ে মৃত কাক টিকে কবর দিল।কাবিল ও তার ভাইয়ের লাশ অনুরূপ ভাবে কবর দিল।

আল্লাহ পাল এরশাদ করেনঃ তারপর আল্লাহ এক কাক পাঠালেন,যে তার ভাইয়ের শব কিভাবে গোপন করা যায় তা দেখাবার জন্য মাটি খনন করতে লাগলো। সে বলল, হায়!আমি কি এ কাকের মতও হতে পারলাম না,যাতে আমার ভাইয়ের লাশ গোপন করতে পারি?তারপর সে অনুতপ্ত হলো।সুরা  মায়েদা আয়াত  ৩১।

হাদীস শরীফে এসেছে,হজরত বাকারাহ (রাঃ)বলেন,আমি রাসুল (সাঃ)কে বলতে শুনেছি যে,যখন দুইজন মুসলিম হাতিয়ার নিয়ে একে অপরের মুখোমুখী হবে,তখন তাদের উভয়ই জাহান্নামে যাবে।প্রশ্ন করা হলো,হত্যাকারীর বিষয়টা তো বোঝা গেল ,কিন্তু যাকে হত্যা করা হলো তার বিষয়টি কেমন?রাসুল পাক (সাঃ)বললেন ,সেও তো তার সাথী ভাইকে হত্যা করতে চেয়েছিল। বুখারী ৭০৮৩,মুসলিম ২৮৮৮।


অন্য হাদীসে এসেছে,সাদ ইবনে আবী ওক্কাস বললেন,হে আল্লাহর রাসুল!যদি সে আমার ঘরে প্রবেশ করে আমাকে হত্যা করতে চায়,তখন আমার করনীয় কি?রাসুলে পাক (সাঃ)বললেন,তুমি তখন আদম সন্তানদের মত হয়ে যাও।তারপর বর্ননাকারী তেলাওয়াত করলেন,যদি তুমি আমার প্রতি তোমার প্রসারিত কর,তবে আমি তোমার প্রতি আমার হস্ত প্রসারিত করবো না(এর অথ হলো তুমি তাকে হত্যা করবে না -সেটা জানিয়ে দাও)তিরমীজি -২১৯৪,আবু দাউদ-৪২৫৭।


"অতঃপর তার অন্তর(যা হিংসা ও শয়তানের কুমন্ত্রনায় খোদাদ্রোহী হয়ে পড়েছিল)তাকে ভাই হত্যায় উৎসাহিত করল।এরপর সে তাকে হত্যা করল।ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তরভুক্ত হলো"সুরা মায়েদা আয়াত -৩০।


আহমদ (র)বর্ননা করেন যে, ইবনে মাসঊদ (রাঃ)বলেন,রাসুলুল্লাহ (সঃ)বলেছেন ঃঅন্যায়ভাবে যে ব্যাক্তি নিহত হয় তার খুনের একটি দ্বায় আদমের পুত্রের ঘাড়ে চাপে।কারন সে-ই সর্বপ্রথম হত্যার রেওয়াজ প্রবর্তন করে।  বিদায়া ওয়ান নিহায়া  ১ম খন্ড পৃষ্ঠা ২১৪।

আর এভাবে পৃথিবীতে প্রথম হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়।


*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন