আল কোরআনের বিধান আলো #al quraner bidhan alo
হজরত আদম আঃ তার পুত্র হাবিলের জন্য অত্যন্ত শোকাহত হয়ে পড়েন এবং কয়েকটি ছন্দ আবৃতি করেন।ইবন জারীর (র)ইবন হুমায়দ থেকে তা উল্লেখ করেন। তাহলোঃ
জনপদ ও জনগন সব ওলট-পালট হয়ে গেছে। ফলে পৃথিবীর চেহারা এখন ধুলি ধুসর ও মলিন রুপ ধারন করেছে। কোন কিছুরই রং রুপ স্বাদ গন্ধ এখন আর আগের মত নাই।লাবন্যময় চেহারার উজ্জ্বলতা ও আগের চেয়ে কমে গেছে।
হজরত আদম(আঃ)এর একশত ত্রিশ বছর,তখন হজরত শীষ (আঃ)জন্মগ্রহন করেন।শীষ মানে আল্লাহর দান।হজরত আদম (আঃ) ছেলে হাবিল মারা যাওয়ার পর আল্লাহর বিশেষ রহমতে তার(হাবিলের)পরিবতে জন্ম হজরত শীষ আঃ।এজন্য নাম রাখা হয় শীষ বা আল্লাহর দান।হজরত শীষ (আঃ)ছিলেন জ্ঞান বুদ্ধি বিবেক নরম প্রকৃতির লোক ছিলেন।
কোরআন ও হাদীসে হজরত শীষ (আঃ) এর নাম না থাকলেও নবী হিসাবে অস্বীকরার উপায় নাই।কারন আল্লাহর একশত চারখানা আসমানি কিতাবের মধ্যে পঞ্চাশ খানা নাযিল হয় হজরত শীষ (আঃ) এর উপর।এপ্রসংগে একটি হাদীস এসেছে।তাহলোঃ
হজরত আবু গিফারী (রাঃ)বর্নিত,তিনি বলেন,একদিন মসজিদে প্রবেশ করি।সে সময় রাসুলুল্লাহ সাঃ মসজিদে একাকী অবস্থান করছিলেন।আমিও তার পাশে বসে পড়ি এবং বলি,হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)!আপনি কি নামাজের নির্দেশ দিয়েছেন? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন,হ্যা,নামাজ উত্তম কাজ।তাই হয় তুমি নামাজ বেশি করে পড় না হয় কম করে পড়।আমি বলি,হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! কোন আমল উত্তম?তিনি বললেন,আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা ও তার পথে জিহাদ করা।আমি বলি,হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! কোন মুমিন উত্তম?তিনি বলেন,সর্বাপেক্ষা উত্তম চরিত্র বিশিষ্ট ব্যাক্তি।আমি বলি,হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! সর্বোত্তম মুসলমান কে?তিনি বলেন,যার কথা ও হাত হতে মানুষ নিরাপদে থাকে। আমি বলি,হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! কোন হিজরত উত্তম,তিনি বলেন,মন্দকে পরিত্যাগ করা। আমি বলি,হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! কোন গোলাম আজাদ করা উত্তম?তিনি বলেন,যে গোলামের মুল্য বেশি ও তার মনীবের নিকট বেশী পছন্দনীয়।আমি বলি,হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! কোন সাদকা উত্তম?তিনি অল্প মালের অধিকারী ব্যাক্তির চেষ্ঠা করা ও গোপনে দরিদ্র কে দান করা।আমি বলি,হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ), কুরআন কারীমের মধ্যে সবচেয়ে বড় মর্যাদাপুর্ন আয়াত কোনটি?তিনি বলেন,আয়াতুল কুরছি।অতঃপর তিনি বলেন, হে আবু যর!সাতটি আকাশ কুরসীর তুলনায় ঐরুপ,যেরুপ কোন মরুপ্রান্তরে একটি বৃত্ত এবং কুরসীর উপরে আরশের মর্যাদা ঐরুপ যেরুপ প্রশস্ত্র প্রান্তরের মর্যাদা বৃত্তের উপর।আমি বলি,হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! নবী কতজন?তিনি বলেন, একলক্ষ চব্বিশ হাজার। আমি বলি, তাদের মধ্যে রাসুল কতজন?তিনি বলেন, তিনশত জন,বড় পবিত্র দল।আমি জিজ্ঞেস করি,সর্বপ্রথম কে?তিনি বলেন, হজরত আদম (আঃ)। আমি বলি, তিনি ও কি রাসুল ছিলেন? তিনি বলেনঃহ্যা,আল্লাহ তায়ালা তাকে স্বহস্তে সৃষ্টি করতঃওর মধ্যে রুহ ফুকে দেন এবং তাকে ঠিক ঠাক করেন।অতঃপর তিনি বলেন, জেনে রাখো, চারজন সুরইয়ানী।(১)হজরত আদম (আঃ) (২)হজরত শীষ (আঃ) (৩)হজরত খানুক (আঃ) বা ইদ্রীস (আঃ)যিনি সর্বপ্রথম কলম দ্বারা লিখেছেন। (৪)হজরত নুহ (আঃ)।চারজন হচ্ছেন আরবি (১)হজরত হূদ (আঃ)(২)হজরত শুআইব (আঃ) (৩)হজরত সালিহ (আঃ) (৪)তোমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ)। সর্বপ্রথম রাসুল হলেন হজরত আদম (আঃ) এবং সর্বশেষ রাসুল হচ্ছেন হজরত মুহাম্মদ (সঃ)। আমি বলি, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! আল্লাহ পাক কতখানা কিতাব নাজিল করেছেন?তিনি বলেন,একশত চারখানা।হজরত আদম (আঃ ) দশখানা,হজরত শীষ (আঃ )পঞ্চাশ খানা,হজরত খানুক তিন খানা,হজরত ইব্রাহিম (আঃ) দশখানা.......।
উপরোক্ত হাদিস খানা তাফসীরে ইবন কাসীর এ সুরা নিসার ১৬৩-১৬৫ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় হাদীস বিবরণ দেওয়া আছে। হাদিস টি অনেক বড় তাই সংক্ষেপ করলাম।
হজরত আদম (আঃ )এর তার প্রিয়পুত্র হজরত শীষ (আঃ) কে তার স্থলাভিষিক্ত করেন।হজরত আদম (আঃ )অন্তিম সময় চলে এল।
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (র )বলেন,"মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে হজরত আদম (আঃ) তার পুত্র হজরত শীষ (আঃ )ওসিয়ত করেন,।তাকে রাত ও দিবসের ক্ষণসমুহ এবং সে সব ক্ষণের ইবাদত সমুহ শিখিয়ে যান ও ভবিষ্যতে ঘটিতব্য তুফান সম্পর্কে ও অবহিত করে যান"।আজকের সকল আদম সন্তানের বংশধারা শীষ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়ে যায় এবং শীষ ব্যাতিত আদম (আঃ) সবগুলো বংশধারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১ম খন্ড পৃষ্ঠা ২২০।
হজরত শীষ (আঃ) এর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তার পুত্র আনুশকে গুরুত্বপূর্ণ ওসিয়ত করে নবুয়্যতের তার উপর অর্পন করেন এবং দ্বায়িত্ব সম্পর্কে তাকে বিশেষ দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। তার মৃত্যুর পর আনুশ পিতার নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে নিজ কওমকে পরিচালনা করেন।
হজরত শীষ (আঃ) ৯১২ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। মক্কার আবু কুবায়েস পর্বত গুহায় হজরত আদম (আঃ )কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। সুত্রঃ উইকিপিডিয়া।
