হজ্জ #Hajj #al quraner bidhan alo#আল কোরআনের বিধান আলো

https://alquranerbidhanalo.blogspot.com/

হজ্জ ঃহজ্জ আরবি শব্দ,হজ্জ অর্থ একটি ভ্রমনে বা যাত্রায় অংশ গ্রহন। ইসলামি পরিভাষায়, একজন শারীরিক ও মানষিক সুস্থ্য মানুষ আর্থিকভাবে সচ্ছল মুসলমান নর-নারীর  জন্য হজ্জ সম্পন্ন করা ফরজ।হজ্জ ইসলাম ধর্মের মৌলিক স্তম্ভের চতুর্থ স্তম্ভ। মক্কা, মদিনা শরীফে, মিনায়, মুযদালিফায়, সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সায়ী করার মাধ্যমে হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন আব্যশক।

জরত ইব্রাহিম আঃ মহান আল্লাহ তাআলা নির্দেশে হজরত হাজেরা আঃ এবং শিশু পুত্র হজরত ইসমাঈল আঃ কে মক্কার মরুভূমি প্রান্তরে রেখে আসেন।সাথে দিয়ে আসেন এক মশক পানি এবং কিছু খেজুর। এই খেজুর ও পানি কয়েক দিন পর শেষ হয়ে যায়। হজরত ইসমাঈল আঃ পানির জন্য ছটফট করতে থাকেন।মা হাজেরা পুত্র কে রেখে পানির সন্ধানে সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাতবার উঠানামা করেন।কোথাও কোনও পানির উৎস দেখতে না পেয়ে দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ফিরে আসতে থাকেন।হজরত ইসমাঈল আঃ এর পায়ের আঘাতে আল্লাহর রহমতে সৃষ্টি হয় ফোয়ারা। এই ফোয়ারাটা জমজম নামে পরিচিত। 

বিত্র কোরআন পাকে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, এবং সেই সময়কে স্বরণ কর,যখন আমি কাবাঘর কে মানবজাতির  মিলনকেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল করেছিলাম,আর বলেছিলাম, মাকামে ইবরাহীম কে সালাতের স্থান রুপে গ্রহন কর।আর ইব্রাহিম ও ইসমাঈল কে তাওয়াফকারী,ইতিকাফকারী,রুকু ও সিজদাহকারীদের জন্যে আমার গৃহকে পবিত্র রাখতে আদেশ দিয়েছিলাম। সুরা বাকারাহ  আয়াত ১২৫।

আল্লাহ পাকের নির্দেশনা অনুযায়ী  জরত ইব্রাহিম আঃ প্রথম হজ্জব্রত প্রবর্তন করেন।আর হিজরি সনের নবম বছরে হজরত মুহাম্মদ (সঃ) এর উম্মতের উপর হজ্জ ফরজ হয়।

বিত্র কোরআন পাকে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, বায়তুল্লাহ শরিফ পর্যন্ত পৌছানোর শক্তি ও সামর্থ যে রাখে,সে যেন হজ্জ করে এবং যে এ আদেশ অমান্য করবে সে কুফুরীর অন্তর্ভুক্ত হবে,আর তার মনে রাখা উচিৎ আল্লাহ তাআলা বিশ্ব প্রকৃতিতে অবস্থান কারীদের মুখাপেক্ষী নন।সুরা আল-ইমরান আয়াত  ৯৭।

জ্জের প্রকারভেদঃ ১)শুধুমাত্র হজ্জ পালনের নিয়্যত করে ইহরাম বেধে হজ্জ সম্পন্ন করাকে হজ্জে ইফরাদ বলে।

২)হজ্জের মাসগুলোতে একই সাথে হজ্জ এবং উমরাহ পালনের জন্য নিয়্যত করে ইহরাম বেধে হজ্জ এবং উমরাহ সম্পন্ন করাকে হজ্জে কেরান বলে।

৩)হজ্জের মাস সমুহে প্রথমে উমরাহ পালনের নিয়্যতে ইহরাম বেধে উমরাহ পালনের পর,হজ্জের নিয়্যতে ইহরাম বেধে হজ্জ সম্পন্ন করাকে হজ্জে তামাত্তু বলে। 


পবিত্র কোরআন পাকে আল্লাহ পাক হজ্জের আদেশে এরশাদ করেন, তারা আপনার কাছে পায়ে হেটে আসবে এবং প্রতিটি চর্বিহীন উটের পিঠে, তারা প্রত্যেকে গভীর ও দুরবর্তি পাহাড়ি রাস্তা থেকে (হজ্জ করতে) আসবে। এবং মানবজাতিকে হজ্জের ঘোষণা দাও,তারা পায়ে হেটে এবং প্রতিটি সরু (যানবাহনে) করে তোমার কাছে  আসবে। তারা অবশ্যই গভীর খাদ থেকে উঠে আসবে। সুরা হজ্জ আয়াত ২৭।
জ্জের তালবিয়াঃ

লাব্বাঈক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাঈকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক,লা শরিকা লাক।

"নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্যে যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো তা তো মক্কায়, এটা বরকতময় এবং বিশ্ব জগতের দিশারি" সুরা আল ইমরান আয়াত  ৯৬। 


al quraner bidhan alo#আল কোরআনের বিধান আলো


হজ্জের আনুষ্ঠানিক ধারাবাহিক কার্যক্রমঃ

জিলহজ মাসের ৮ তারিখ হজ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম বেধে কাবা শরিফ বা বাসা/হোটেল থেকে মিনায় রওয়ানা দিতে হয়।যোহর নামাজের আগেই মিনায় পৌঁছাতে হয়।যোহর থেকে ৯ তারিখ ফরজ পর্যন্তু এখানে অবস্থান করতে হয়। হাজীদের এখানে অবস্থান করা সুন্নত এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মুস্তাহাব। 

৯ তারিখ ফজরের নামাজের পর ওজু/ গোসল শেষ করে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এবং যোহর নামাজের আগেই পৌছানো।আরাফাতের যাওয়ার সময় তাকবির (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু  আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ )পাঠ করা।যোহর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা। খুতবা শোনা এবং একই ইকামতে আলাদা আলাদা করে ধারাবাহিক ভাবে দুই ওয়াক্তের নামাজ করা।আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজ্জের অন্যতম রোকন।

আরাফাতের ময়দানে সন্ধা পর্যন্ত অবস্থান করে মাগরিবের আগেই মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে হয়। মুজদালিফায় পৌঁছে আলাদা আলাদা ইকামাতে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে সারারাত খোলা আকাশের নীচে মরুভূমি তে অবস্থান  করতে হয়।এখানে ফজরের নামাজ পড়ে কিছু সময় থাকার পর সুর্যদোয়ের পুর্বে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে হয়। এখান থেকে শয়তানকে পাথর মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করতে হয়।

https://alquranerbidhanalo.blogspot.com/


১০ তারিখে সকাল সকাল মিনায় এসে যোহর নামাজের আগেই বড় জামরাতে ৭ টি কংকর মারা শেষ করেন হাজীদল। 

কংকর মারা শেষে পশু কুরবানী করতে হয়। পশু কুরবানী শেষ করে মাথা মুন্ডন করতে হয়। মাথা থেকে চুল পরিষ্কার করার পরে হজ্জের ইহরাম শেষ করেন। এই সময় সমস্ত সাধারণ কাজ সমপন্ন করতে পারেন শুধুমাত্র স্ত্রী সহবাস ব্যাতিত।

১১ও১২ তারিখ মিনায় অবস্থান করে ছোট্ট, মধ্যম এবং বড় জামরাতে ৭ টি করে মোট ২১ টি পাথর মারতে হবে। ১২তারিখ সুর্য ডোবার আগেই তাওয়াফে যিয়ারত সমপন্ন করতে হয়। ইহাই হজ্জের সর্বশেষ রোকন।

আল্লাহ পাক এরশাদ করেন "এরপর তারা যেন তাদের অপরিছন্নতা দুর করে এবং তাদের মানত পুরো করে এবং তাওয়াফ করে প্রাচিন গৃহের"। সুরা হজ্জ আয়াত  ২।












*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন