আদি পিতা হযরত আদম (আ:)সৃষ্টি রহস্য
পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টির পুর্বে আল্লাহ জ্বীন জাতি সৃষ্টি
করেন।তারা আল্লাহর ইবাদত করত না।বরং নানাবিধ অন্যায় কাজে লিপ্ত হয় এবং বিপর্যয় সৃষ্টি
করে। ফলে আল্লাহ তাদের শাস্তি দেন।
অতঃপর আল্লাহ ফেরেশতাদের উদ্দেশ্য করে বললেনঃ পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি পাঠাতে চাই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন "واذ قل ربق للملءكه اني جاعل فى الارض خليفه "বাংলা অনুবাদঃ ওয়া ইজ কলা রাব্বুকা লিল মালাইকাতি ইন্নি জাইলুন ফিল আরদি খলিফা। সূরা বাকারাহ আয়াত ৩০ অর্থঃ পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি পাঠাতে চাই।
ফেরেশতারা বললো "قلوااتجعل فيحا من يفسد فيحا يسفك الدماء و نحن نسبح بحمدك و نقدس لك অনুবাদঃ কলু আ তাজ আলু ফিহা মাই ইউফছিদু ফিহা ইয়াশফিকুদ দিমা আ ওয়া নাহনু নুসাবীহ ওয়া বিহামদিকা ওয়া নুকদদিসু লাক। সূরা বাকারাহ আয়াত ৩০। অর্থঃ তারা বললো ,"আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন ?যারা অশান্তি ঘটাবে ও রক্তপাত করবে ?আমরাইতো আপনার প্রশংসা,তাসবীহ এবং পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
আল্লাহ বলেন "قل اني علم ما لا تعلمون অনুবাদঃ কলা ইন্নি আলামু মায়ালা তায়ালামুন। অর্থঃ নিশ্চয়ই আমি যা জানি তোমরা তা জাননা"। সূরা বাকারাহ আয়াত ৩০ ।
দুনিয়ার প্রথম মানুষ ও নবী হযরত আদম আঃকে নিজ হাত দ্বারা সৃষ্টি করেন।সুরা ছোয়াদ আয়াত ৭৫।
وعلم ادم الا سما ء كلحا ثم عرضحم عل الملءكة فقال انبوءنى باسما ء حولا ء ان كنتم صدكين অনুবাদঃ ওয়া আল্লামা আদামাল আছমা আ কুল্লাহা ছুম্মা আরাদা হুম আলাল মালাইকাতি ফাঁকালা আম্বিয়নই বিআছমাঈ হা উলা ই ইং কুনতুম সদিকিন।সূরা বাকারাহ আয়াত ৩১।অর্থঃ এবং আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন। তারপর তিনি সমস্ত ফেরেশতাদের সম্মুখে তা প্রকাশ করলেন এবং বললেন,তোমরা আমাকে এ সবকিছুর নাম বলে দাও, তোমরা সত্যবাদী হও।
তারা বললো "قلو اسبحنك لا علم لنا الا ما علمتنا انك انت اعليم الحكيم অনুবাদঃ ক্বলু সুবহানাকা লা ইলমা লানা ইল্লা মা আল্লামতানা ইন্নাকা আন্তাল আলি মুল হাকিম। বাংলা অর্থঃ আপনি মহান ও পবিত্র।আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন, তা ব্যাতিত আমাদের কোন জ্ঞান নাই। বস্তুত আপনি মহাজ্ঞানী ও প্রজ্গাময়।
আল্লাহ সুবহানু তায়ালা হযরত আদম আঃ কে যখন জিজ্ঞাসা করলেন।তখন হযরত আদম আঃ সবকিছুর নাম বলে দিলেন।মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য জ্বীন এবং ফেরেশতাকুল কে সিজদা করতে আদেশ করেন।পবিত্র কোরআন পাকে এরশাদ করেন , "ইন্নি আয়ালামু মালায়া তায়ালামুন"।অনুবাদঃনিশ্চয়ই আমি যা জানি তোমরা তা জান না।একমাএ ইবলিশ ব্যাতিত সবাই সিজদা করল।ইবলিশ অহংকারের বসবতি হয়ে পথভ্রষ্ট শয়তানে পরিনত হলো।অথচ ইবলিশ ছিল বড়ই পরহেজগার ও মুও্ওাকি এবং ইবাদতকারী ।
ইবলিশ অহংকার ও প্রত্যাখান করার কারনে কাফিরদের অন্তরভুক্ত হলো।সুরা বাকারা আয়াত ৩৪।ইবলিশ নিজের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বলল আমি আদম থেকে উত্তম কারণ আপনি আমাকে আগুন থেকে ওকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।আল্লাহ পাক বললেন তুই অভিশপ্ত তুই বের যা তোর উপর আমার অভিশাপ রইল কিয়ামত দিবস পরযন্তু।সুরা ছোয়াদ আয়াত ৭৬ ৭৮।সুরা আরাফ আয়াত ১২।আল্লাহ অন্য আয়াতে এরশাদ করেন ,"বের হয়ে যা এখান থেকে।কারণ তুই অভিশপ্ত।সুরা আল-হিজর আয়াত ৩৪,সুরা সাদ আয়াত ৭৭।
তখন ইবলিশ বলল"হে আমার সৃষ্টিকতা,আপনি আমাকে যেমন পথভ্রষ্ট করেছেন,"আমিও তাদেরকে(মানুষকে)পৃথিবীতে নানা সৌন্দরযো দিয়ে আকৃষ্ট করবো এবং তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করবো"সুরা আল-হিজর আয়াত ৩৯।শয়তান আরও বলল"আপনি যাকে আমার চেয়ে বেশী মযাদা দিয়েছেন,আমাকে যদি আপনি কেয়ামত দিবস পযন্তু অবকাশ দিন তাহলে আমি তার বংশধরদের কিছু সংখ্যক ব্যাতিত সবাই কে গোমরাহ্ করে দিব"সুরা আল-ইসরা আয়াত ৬২। সে বলল "হে আমার পালনকরতা,আমাকে বিচার দিবস পরযন্ত সময় দিন"আল্লাহ তায়ালা বললেন"তোমাকে (বিচারদিবস পরযন্তু)অবকাশ দেওয়া হলো।সুরা আল-হিজর আয়াত ৩৬-৩৭,সুরা আল-আরাফ আয়াত ১৪-১৫,সুরা সাদ আয়াত ৭৯-৮০।
ইবলিশ আরও বলল "আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন।আমিও আদম সন্তানের আপনার নিরদেশিত সরল পথে বসে থাকবো।তারপর তাদের কাছে আসবো,সামনের দিক থেকে,পেছন দিক দিয়ে,ডান দিক ও বাম দিক থেকে।আপনি তাদের অধিকাংশ কে সঠিক পথে পাবেন না"সুরা আল-আরাফ আয়াত ১৬-১৭।
মহান আল্লাহ আমাদের উদ্দেশ্যে বলেন,"হে বনী-আদম,শয়তান যেন তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে না পারে,যেমন সে তোমাদের পিতা-মাতাকে(আদম ও হাওয়া )জান্নাত হতে বের করেছে।"সুরা আল-আরাফ আয়াত ২৭।
আমাদের শিক্ষাঃ শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু।সে প্রত্যেক খারাপ বিষয় কে মানুষের কাছে এমন ভাবে উপস্তাপন করে যাতে মানুষ প্রলুব্ধ না হয়ে থাকতে পারে না।শয়তান তার কুবুদ্ধি দ্বারা সোজা-সরল পথ থেকে ভুল পথে পরিচালিত করে।তার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে ততক্ষন,যতক্ষন মানুষ গোমরাহি লিপ্ত হয়।তাই সাবধা্ন,এখনও সময় আছে,তওবা করে সঠিক পথে চলার চেষ্টা করেন।আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে বুঝার এবং সঠিক ভাবে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন।আমিন।
