ইমাম মালিক (রহ) এর জীবনী/মালিক মাজহাব এর প্রতিষ্ঠাতা#al quraner bidhan alo#আল কোরআনের বিধান আলো

al quraner bidhan alo#আল কোরআনের বিধান আলো




https://alquranerbidhanalo.blogspot.com/





ইমাম মালিক (রহ) এর জীবনী

হযরত ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ  মালিকী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা।  প্রখ্যাত আলেম দের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ইমাম ছিলেন। যুগে যুগে বহু ইমাম ইসলামের খেদমতে জীবন পার করে দিয়েছেন। তাদের মতন ইমাম মালিক  ইসলামের খেদমতে সারাটা জীবন ব্যয় করেছেন।


তাঁর নাম মালেক, উপনাম আবু আবদুল্লাহ, উপাধি ইমামু দারিল হিজরাহ। পিতার নাম আনাস। হজরত ইমাম মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আবি আমির আল-আসবাহি। তাঁর জন্ম: ৭১১ খ্রিস্টাব্দ, ৯৩ হিজরী  । তিনি একজন বিখ্যাত হাদিস বিশারদ এবং ফিকহের অত্যন্ত সম্মানিত পণ্ডিতদের একজন ছিলেন। তিনি মুসলমানদের প্রধান চার ইমামের একজন। মালেকি মাজহাব তাঁরই প্রণীত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁরই সংকলিত বিখ্যাত এবং প্রাচীনতম হাদীসগ্রন্থ হচ্ছে ‘মুয়াত্তা মালিক’।


ইমাম মালেক (রহ.)-এর পূর্বপুরুষ ইয়েমেনের অধিবাসী ছিলেন। তার দাদা আবু আমের দ্বিতীয় হিজরীতে (৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে) ইসলাম গ্রহণের পর সপরিবারে মদিনা চলে আসেন। পরবর্তীতে মদিনাতে ইমাম মালেক জন্মগ্রহণ করেন।ইমাম মালেক (রহ.)-এর বংশপরম্পরা ইয়েমেনের শাহি খানদান হুমাইরের শাখা ‘আসবাহ’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে তাকে আল-আসবাহী বলা হয়। এ মতকেই প্রখ্যাত ইসলামি ইতিহাসবিদ প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে মুহাম্মদ বিন ইসহাক বলেন, ইমাম মালেক এবং তার পূর্বপুরুষ তায়ম গোত্রের মাওয়ালি ছিলেন


শৈশবেই তিনি পুরো কুরআন শরিফ মুখস্থ করেন। এরপর তিনি মদিনার বিখ্যাত তাবেয়ী আবু সুহাইল নাফের কাছে হাদিস শিক্ষা করেন। এছাড়াও ইমাম মালেক তৎকালীন বহু বিখ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্বদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাদের মাঝে অন্যতম হলো হিশাম বিন উরওয়া, জাফর সাদিক এবং ইবনে শিহাব যুহরী। এভাবে তিনি বহু শায়খের সান্নিধ্য গ্রহণ করেন।

নিজ হাতে কাজ করে জীবিকা অর্জনকারী, দুনিয়ার বিরাগী, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ও অল্পে তুষ্ট, দ্বীনদার, তাক্বওয়াবান ও সুচরিত্রের অধিকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সুন্দর হস্তাক্ষরে প্রতি বছর একটি করে কুরআন শরিফের কপি লিখতেন। লিখিত কুরআন শরিফের কপির পার্শ্বটীকাতে ক্বিরাআত ও তাফসির লিখতেন। সেটি বিক্রি করে যা পেতেন তা দিয়ে তাঁর বছর চলে যেত।
শাসকদের নিকটবর্তী হয়ে তাদের উপঢৌকন গ্রহণ করাকে ইখলাস ও তাকওয়ার পরিপন্থী মনে করতেন। তিনি বলতেন, ‘আল্লাহ আমার পিতার প্রতি রহম করুন। তিনি বলতেন- ‘আমি চাই না যে, তুমি আলেম হও; এই আশংকায় যে, তুমি আমীর-ওমরাদের দরজায় ধরনা দিবে।’

মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন হয়। এটি হলো রাসুল (সা.)-এর প্রিয় শহর। রাসুল (সা.) ও সাহাবিরা ইন্তেকাল করলেও তাঁদের বংশধরের বেশির ভাগ এখানেই বসবাস করেন। তিনি এখানেই জ্ঞানার্জন করেন। আবদুর রহমান ইবনে হরমুজ (রহ.)-এর কাছে তিনি হাদিসশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। অতঃপর ইমাম জুহরি (রহ.), নাফে (রহ.), ইবনে জাকওয়ান (রহ.) এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রা.)-এর কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। হিজাজের ফকিহ রাবিয়াতুর রায় (রহ.)-এর কাছে তিনি ফিকহশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। স্বীয় ওস্তাদদের থেকে রেওয়ায়াত ও ফতোয়া দানের সনদপ্রাপ্তির পর ফতোয়ার আসন সমাসীন হন। ৭০ বছর বয়সে তিনি অধ্যাপনার কাজ শুরু করেন। মসজিদ-ই-নববী ছিল তাঁর পাঠদানের জায়গা। বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য জ্ঞানপিপাসু তাঁর দরবারে এসে  জড়ো হতো। ইমাম মালেক ইবনে আনাস (রহ.) একজন যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ফিকহবিদ ও মুজতাহিদ ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেন, ইমাম মালেক ইবনে আনাস না থাকলে হেজাজবাসীদের ইলম বিলুপ্ত হয়ে যেত। হাদিসের পাঠদানে ইমাম মালেক খুবই আগ্রহবোধ করতেন এবং এটাকে তিনি ইসলাম প্রচারের অংশ হিসেবে মনে করতেন। তিনি গভীর প্রজ্ঞার সঙ্গে পাঠদান করতেন। পাঠদানের প্রারম্ভে গোসল করা, পরিষ্কার জামা-কাপড় পরিধান করা ও খুশবু ব্যবহার ইত্যাদি ছিল তাঁর নৈমিত্তিক অভ্যাস। 


তিনি সুদীর্ঘ ৫০ বছরকাল শিক্ষা ও ফতোয়া দানের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। প্রিয়নবী (সা.)-এর সম্মানার্থে তিনি মদিনায় পাদুকা ব্যবহার করতেন না এবং বাহনে চড়তেন না। তিনি বলতেন, যে জমিনে প্রিয়নবী শায়িত আছেন, সে জমিনে আমি বাহনে চড়তে লজ্জাবোধ করি।


 ইলম, আমল ও নেকীর কাজে ভরপুর জীবন কাটিয়ে তিনি ১৭৯ হিজরির ১১/১৪ই রবিউল আউয়াল (৭৯৫ খ্রি. জুন) বহুমূত্র রোগে আক্রান্ত হয়ে মক্কাতে মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪। মতান্তরে ৮৬/৮৭/৯০ বছর। তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে সমাহিত করা হয়।


*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন