পবিত্র কোরআন পাকে আল্লাহ পাক এরশাদ করেন"হে মুমিনগন,তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যাতে তাকওয়া বা আল্লাহ ভীরুতা অবলম্বন করতে পার"সুরা বাকারা -আয়াত ১৮৩।
"সিয়াম নিদিষ্ট কয়েকদিনের।তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ্য হলে অথবা সফরে থাকলে অন্য সময় রোজা পুরা করবে।যাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক হয় তাদের কর্তব্য এর পরিবতে একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদান করা।যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সৎকাজ করে তবে তা অধিক কল্যানকর।আর রোজা রাখা তোমাদের জন্য অধিক কল্যানকর যদি তোমরা জনতে"(সুরা-বাকারা-আয়াত-১৮৪)
রোজার ফরজ সমুহঃ
১)নিয়্যত করা।
২)সুবেহ সাদিক হতে সূর্যাস্ত অবধি না খেয়ে থাকা।
রোজা ভাঙ্গার কারন সমুহঃ
১)ইচ্ছাকৃত ভাবে কিছু খেলে বা পান করলে।
২)মুখ ভর্তি বমি করলে।
৩)ফলের বিচি বা আঠি গিলে ফেলা।
৪)স্ত্রী চুম্বন বা সহবাস করলে।
৫)নাক,কান ও গলায় ঔষধ প্রবেশ করলে।
৬)পায়ুপথ বা যৌনপথ দিয়ে কোন কিছু প্রবেশ করলে যেমন ঢুস।
রোজা মাকরুহ হওয়ার কারন সমুহঃ
১)গড়গড়াসহ কুলি করা।
২)শিঙ্গা লাগানো।
৩)মিথ্যা কথা বলা।
৪)অশ্লীল কথা বলা বা গালি দেওয়া।
৫)শরীরে তেল মাখা।
৬)অতিরিক্ত গরমে ভেজা কাপড় গায়ে জড়িয়ে রাখা।
৭)দাঁত থেকে খাদ্যকনা বের করে গিলে ফেলা।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত রাসুলে করীম (সঃ)এরশাদ করেন,যে ব্যাক্তি সম্পূর্ণ বিশ্বাষের সাথে রমজান মাসের রোজা পালন করবে,তার আগের এবং পরের সমস্ত গুনাহ আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দিবেন।সহীহ বুখারী-৩৮,সহীহ মুসলীম-৭৬০।
রমজান মাসের রোজা সম্পর্কে আল্লাহ পাক আরেকটি আয়াতে এরশাদ করেন"রমজান মাস,এ মাসে সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী পবিত্র কোরআন নাযিল হয়েছে।সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে,তারা যেন এই মাসে রোজা রাখে।কেউ অসুস্থ্য থাকলে অথবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পুরা করে নিবে।আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ, তাই চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না।তাই তোমরা রোজা রাখবে অর্থাৎ রোজার সংখ্যা পুরন করবে এবং নিজেদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার জন্য আল্লাহর তকবীর পাঠ(মহিমা)কর এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পার"।সুরা আল বাকারা-আয়াত-১৮৫।
রোজা যাদের উপর ফরজঃ
১)মুসলমান হতে হবে।
২)বিবেকবান সম্পন্ন হতে হবে।
৩)প্রাপ্ত বয়স্ক বা বালেগ হতে হবে।
রোজা আদায়ের শর্তসমুহঃ
১)সুস্থ্য হতে হবে।
২)মুকিম হতে হবে।
রোজা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আরও এরশাদ করেন "রোজার রাতে তোমাদের জন্যে তোমাদের স্ত্রী দেরকে হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্য এবং তোমরাও তাদের জন্য পরিচ্ছদ। আল্লাহ পাক জেনেছেন যে তোমরা নিজেদের খিয়ানত করেছিলে অতঃপর তিনি তোমাদের তওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে মার্জনা করেছেন সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও।আল্লাহ তোমাদের জন্য যা নির্ধারন করে রেখেছেন (অর্থাত সন্তান) তা অন্বেষণ করো।আর তোমরা আহার কর ও পান কর যতখ্খন তোমাদের জন্য (রাতের) কালো রেখা থেকে ফজরের সাদা রেখা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর রাত পর্যন্তু রোজা পুর্ন করো।আর তোমরা মসজিদে ইতেকাফ অবস্থায় তাদের সাথে সংগত হয়ো না।এগুলো আল্লাহর (নির্ধারিত) সীমা,সুতরাং এর নিকটবর্তী হয়ো না।আর এভাবেই আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্যে তার আয়াত সমুহ স্পষ্টভাবে বর্ননা করেন, যাতে তারা তাকওয়া বা আল্লাহ ভীরুতা অবলম্বন করতে পারে।সুরা বাকারাহ -আয়াত -১৮৭।
রোজা যাদের কাযা করা ওয়াজিব হয়ঃ
১)ইচ্ছাকৃত ভাবে কেউ অখাদ্য খেলে।
২)স্ত্রীর সাথে চুম্বন বা স্পর্শে বির্যপাত হলে।
৩)ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করলে।
৪)ওজুর সময় পেটে পানি চলে গেলে।
৫)রোজাদারকে জোর করে খাওয়ালে।
৬)যে কোন সংগমের ফলে বির্যপাত হলে।
৭)সুবহে সাদিক মনে করে সকালে খেলে।
৮)তরল ওষুধ বা ঢুস নিলে (যা পেটে বা মাথায় যায়)
৯)ঘুমন্ত অবস্থায় খেয়ে নিলে।
১০)রোজা ভুলে খেয়ে নিলে রোজা ভেঙে গেছে মনে করে ইচ্ছে করে খেলে।
.png)
.png)